New to Nutbox?

SBD recovery case #1 : beneficiary rme [round 25]

6 comments

sbd-recovery
73
18 days agoSteemit3 min read

This post is made for recovering lost SBD : 1470

Recovered so far : 740.762 SBD


গল্প (রক্ত তৃষা) - পর্ব ২৪


vampire-2115396_1280.jpg
Copyright Free Image Source : PixaBay


কিন্তু উপায় তো নেই কোনো আর । তাই সব ভয় ভীতি ঝেড়ে ফেলে মনকে কঠিন করলেন কমলাদেবী । স্বামীর প্রাণ তাঁকে যে করেই হোক রক্ষা করতে হবে । তাঁর অনাগত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁকে যত কষ্টের কাজই হোক করতে হবে ।

কমলা রাজি হতেই চন্ড মনে মনে দারুন খুশি হয়ে বললো, "আমি রাজবাড়ীর খিড়কির দ্বারে রাত্রি দ্বিপ্রহরে আপনার জন্য অপেক্ষা করবো রানীমা । খিড়কি দুয়ারে শুধু হারু বাগদী ছাড়া আর কোনো লেঠেল থাকে না । ওকে আজ রাতের মতো ওখান থেকে সরিয়ে দিতে হবে আপনাকে ।"

শুনে কমলা একটুক্ষণ ভেবে তারপরে বললেন, "হারুকে আমি ওর বাবুর কাছে পাঠিয়ে দেব একটু পরেই । বলবো, তুই বাবুর কাছে আজকে সারা রাত থাকবি আর তাঁর দেখভাল করবি । হোক তাঁর শ্বশুরবাড়ি তারপরেও নিজেদের বাড়ির লেঠেলদের মধ্যে কাউকে না কাউকে তো থাকা উচিত বাবুর সাথে । সে যাই হোক বাবা, আপনি চিন্তা করবে না । হারুকে আমি আজ রাতের জন্য খিড়কী দোর থেকে সরিয়ে দেবো ।"

এ কথা শুনে পরম নিশ্চিন্তে চন্ড একটা সংস্কৃত মন্ত্র আওড়াতে আওড়াতে ভারী খুশি হয়ে কমলাদেবীকে আশীর্বাদ করে প্রস্থান করলো -

"দেবী প্রপন্নার্তিহরে প্রসীদ, প্রসীদ মাতর্জগতোহখিলস্য।
প্রসীদ বিশ্বেশ্বরি পাহি বিশ্বং, ত্বমীশ্বরী দেবি চরাচরস্য।।

ত্বং বৈষ্ণবীশক্তিরনন্তবীর্যা, বিশ্বস্য বীজং পরমাহসি মায়া।
সম্মোহিতং দেবি সমস্তমেতত্ত্বং বৈ প্রসন্না ভুবি মুক্তিহেতু:।।"

এদিকে এই কান্ড চলছে আর ওদিকে ভূপতিবাবু পরম পরিতোষ সহকারে পুজো দেখছেন । পুজোর আয়োজন এখন প্রায় শেষ । আর কয়েক দন্ড পরেই পুজো শুরু হবে । ছাগবলির জন্য দেবীর প্রকান্ড খাঁড়া খানা বের করে সেটাকে গঙ্গা জল দিয়ে ধুয়ে শান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে । এরপরে তেল-সিঁদুরের প্রলেপ মাখিয়ে বলিকার্য্যের জন্য প্রস্তুত করে রাখতে হবে ।

প্রকান্ড হাঁড়িকাঠের সর্বত্র সিঁদুর লেপে দেওয়া হলো । এই হাঁড়িকাঠে একটু পরেই বলি শুরু হবে । একের পর এক পাঁঠার মুন্ডচ্ছেদ করা হবে প্রকান্ড খাঁড়া খানা দিয়ে । মোট ১০৮ টা পাঁঠাবলি হবে আজ ।

করালীবাবু ও ভূপতিবাবু গাঁয়ের আরো কয়েকজন বিশিষ্ট মানুষের সাথে মিলে পুজোর ভোগ রান্নার জায়গা তদারক করতে বেরোলেন । নিরামিষ ও আমিষ দু'প্রকারই হচ্ছে । আমিষের মধ্যে প্রধানতঃ মাছের মুড়ো দিয়ে মুড়িঘন্ট, মাছের তরকারি আর পাঁঠার মাংস হবে । পাঁঠা তো এখনো বলি হয়নি, তাই মাছটাই আগে রান্না চাপানো হয়েছে । পুরো একটা গ্রামের মানুষ খাবে । বিশাল আয়োজন চলছে তাই রান্নার জায়গায় ।

ঘুরে ঘুরে সব ব্যবস্থা দেখছেন ভূপতিবাবু । বেশ রাত হয়েছে, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুজো শুরু হয়ে যাবে । এমন সময় দেখতে পেলেন তাঁর লেঠেল হারু বাগদী এসে হাজির হয়েছে । হারুকে প্রথম দেখাতেই ভূপতিবাবুর বুকের মধ্যে ছ্যাঁৎ করে উঠলো । কমলার কিছু হয়নি তো ? হারু এসে প্রণাম করে দাঁড়াতেই শশব্যস্তে তিনি তাই কমলার কথাই সর্বাগ্রে জিজ্ঞেস করলেন । ভূপতিবাবুর আশংকা মিথ্যে প্রতিপন্ন করে দিয়ে হাসিমুখে হারু জানালো যে গিন্নি মা ভালোই আছেন, আর তিনিই তাকে পাঠিয়েছেন বাবুর দেখভালের জন্য ।

বিশাল একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ভূপতিবাবু । যাক, এখন পুজোটা ভালোভাবে মিটে গেলে কালই তিনি বাড়ি ফিরতে পারবেন । এই সময়টাতে কমলার কাছে তাঁকে সার্বক্ষণিক থাকতে হবে ।

[চলবে]

Comments

Sort byBest